ব্যবসায়িক কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অনেক সময় নানা লেনদেন করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে একটি চুক্তিপত্র করা আবশ্যক। কিন্ত আমরা অনেকেই চুক্তিপত্র লেখার অনেক নিয়মই জানি না। এত বিভিন্ন সমস্যাও পড়তে হয় আমাদের।

চুক্তিপত্র

চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মা বা শর্ত প্রযোজ্য। সেগুলো হলো-

বয়স: চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার জন্য দুই পক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় ব্যক্তিকে অবশ্যই আইনের চোখে স্বাবলম্বী, সাবালক এবং সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে।

প্রস্তাব: প্রত্যেক চুক্তিতে অবশ্যই একজন আরেকজনের সঙ্গে প্রস্তাব আদান প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এক পক্ষ আরেকপক্ষকে চুক্তিবদ্ধ হতে আহ্বান জানাবে এবং অপর পক্ষ সে আহ্বান সম্মতি জ্ঞাপন করতে প্রতিদান স্বরুপ কিছু প্রথম পক্ষকে দিতে হবে। প্রতিদান ছাড়া কোনো চুক্তিই সম্পাদিত হয় না।

অংশীদারি চুক্তি: অংশীদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনো ব্যবসা কিংবা কোনো কিছু উদ্যোগ নেয়ার যে বিষয়বস্তু লিপিবদ্ধ করা থাকে তাকে অংশীদারি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করা হয়। এই চুক্তিপত্রে মূলত ব্যবসায়িক গঠন, উদ্দেশ্য, অধিকার, পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।

চুক্তিপত্র লেখার নিয়ম

চুক্তিপত্র লিখতে এবং চুক্তিবদ্ধ হতে কিছু নিয়ম পালন করা জরুরি। চুক্তিপত্র সম্পাদনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন চুক্তিপত্রের আইন পরিপন্থী কোনো বিষয় স্বীকৃত না হয়। কোনো ত্রুটি বা অপূর্ণতা যেন না থাকে। একদম ছোট ছোট বিষয়গুলো কিংবা যেসব বিষয় একদম না জানালেও চলবে সেসব বিষয়গুলোও চুক্তিপত্রে উল্লেখ করতে হবে। এবং সেসব বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা পর্যালোচনা করতে হবে।

যার বা যাদের সঙ্গে চুক্তি করা হবে,তা চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে। কার কী দায়িত্ব তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

কোনোভাবেই ত্রুটি রাখা যাবে না। ত্রুটি থাকলে ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গেলে ঝামেলায় পড়তে হবে।

চুক্তিপত্রের নিয়ম

১. চুক্তিকারি দুই পক্ষের নাম ও ঠিকানা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে চুক্তি হলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, অংশীদারত্বের বিবরণ, সঙ্গে বাকিসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এমনভাবে তথ্য যুক্ত করতে হবে চুক্তিপত্রে যাতে সহজেই বোঝা যায়। মোটকথা সহজবোধ্য করতে হবে।

২. তারিখ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই চুক্তির ক্ষেত্রে। যদি চুক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে হয়, সে ক্ষেত্রে কবে চুক্তি শুরু হচ্ছে আর কবে চুক্তি শেষ হচ্ছে তার তারিখ অবশ্যই উল্লেখ কররত হবে।

৩. অংশীদারদের পুঁজি কত, কোন পক্ষ কত অংশ পুঁজি দিয়েছে, কি নিয়মে লাভের অংশ আদায় হবে, ব্যবসার ব্যবস্থাপনা কেমন হবে প্রভৃতি বিষয় অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা দেখা দিলে সে সমস্যা কিভাবে নিষ্পত্তি করা হবে সে বিষয়ে চুক্তিতে উল্লেখ করতে হবে। বিশেষ করে বিরোধ হলে আলোচনা কিংবা সালিশের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করার সুযোগ থাকবে নাকি থাকবে না, তার উল্লেখ অবশ্যই থাকা দরকার।

৪. বর্তমানে সব ক্ষেত্রেই মীমাংসার মাধ্যমে যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। কিংবা অন্তত সে বিষয়ে সবার একটা ইতিবাচক ধ্যান ধারণা কাজ করে। তাই চুক্তিপত্রের একটি অনুচ্ছেদে এ সংক্রান্ত শর্ত রাখা খুবই জরুরি। চুক্তিনামায় সালিশ আইন ২০০১-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিধানটি রাখা যেতে পারে।

৫. চুক্তির শেষে দুই পক্ষের স্বাক্ষর ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিতে হবে।

৬. চুক্তি করার সময় এবং চুক্তি পত্র যে দুই পক্ষকে নিয়ে লিখিত হবে তাদের মধ্যকার কেউ নাবালক, পাগল, দেউলিয়া ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, বিদেশি শত্রু ও দেশদ্রোহী ব্যক্তি প্রমাণিত হলে সেই চুক্তি সম্পাদিত হবে না এবং সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সবশেষ কেবল চুক্তি করতে হবে বিধায় চুক্তি করে ফেলবো এমনভাবে করলে কিছুই হবে না। বরং সম্পূর্ণ নিয়মকানুন মেনে নিয়ে ঠিক করে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে।

জীবন নিয়ে উক্তি