এই যুক্তরাষ্ট্র কী ক্রিকেট-বিশ্বের বিস্ময়! টেস্ট খেলুড়ে একটি দেশকে নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা করা সত্যিই বিস্ময়কর। তবে এর চেয়েও বড় বিস্ময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের টি২০ সিরিজ হার। যে দল আটটি বিশ্বকাপ খেলেছে, যে দলের ঝুলিতে রয়েছে ১৬৭টি টি২০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা, এক বছর আগে যে দেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে; সেই বাংলাদেশ দলের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ নিদারুণ পীড়াদায়ক সমর্থকদের হৃদয়ে।

এ সিরিজ হার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠা স্বাভাবিক। গত রাত থেকে সমর্থকরা ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেনও। বিসিবি কর্মকর্তারাও মুখ লুকানোর চেষ্টা করছেন কুলুপ এঁটে। কিন্তু মিনোস যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টি২০ সিরিজ হার ক্রিকেটারদের অনুতপ্ত করেছে কিনা জানা নেই। যে দলের আত্মবিশ্বাস ভুলে ভরা, খেলোয়াড়রা নিজেদের সামর্থ্যকে বড় করে দেখেন; তাদের কাছে পরাজয় হয়তো বড় কিছু নয়। নাজমুল হোসেন শান্তরা আরেকবার বলতেই পারেন, ‘ক্রিকেটে এটা হয়েই থাকে।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের সিরিজ থেকে ছন্দ হারাচ্ছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ভালো খেলতে পারেনি তারা। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে জিতলেও দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছিল ব্যাটিং দৈন্যতা। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাসের ব্যাটে রান ছিল না। যদিও অধিনায়ক বিষয়টিকে বড় করে দেখতে চাননি। বরং সিরিজ থেকে সব ভালো জিনিস খোঁজার চেষ্টা করে গেছেন।

তিনি যে ভুল করেছিলেন, তা পরিষ্কার হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সিরিজ হারে। অভিবাসী ক্রিকেট দলের কাছে এভাবে অসহায় আত্মসমর্পণ লজ্জার বটে। টানা দুই ম্যাচে ব্যাটারদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশজনক। প্রথম ম্যাচে ১৫৩ রান করে হেরেছে পাঁচ উইকেটে। সিরিজ-নির্ধারণী দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ রানের পরাজয়। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ টেস্ট খেলুড়ে বাংলাদেশ।

প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্সর উইকেট স্লো হলেও তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজায় বাংলাদেশ। কন্ডিশন অনুযায়ী বোলিং ভালো ছিল। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম সমন্বিতভাবে ১৪৪ রানে স্বাগতিকদের আটকে দেন। লক্ষ্য দেড়শ রানের নিচে থাকায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলার কথা ব্যাটারদের। তারাই কিনা জুটি গড়তে পারেননি।

প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে সৌম্য সরকার কট অ্যান্ড বোল্ড। লিটন কুমার দাসের জায়গায় খেলতে নামা তানজিদ হাসান তামিমও হতাশ করেন জাসদীপ সিংয়ের বলে বোল্ড হয়ে। ৩০ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে টালমাটাল টাইগার বাহিনী। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয় আর সাকিব আল হাসান জমানো লড়াইয়ের বাঁধন যে পলকা ছিল, কে জানত। তারা যেখানে শেষ করলেন, সেখানেই মৃত্যু হলো সিরিজের। ব্যাটাররা মিছিল করে সাজঘরে ফিরলেন।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলি অনিকদের উইকেট বিসর্জন দেখে মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার, ডেল স্টেন, ম্যাকগ্রারা বোলিং করছিলেন; যে বল খেলা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে কি মিনোস যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরাজয়ের ভয়ে পরাজিত বাংলাদেশ? ক্রিকেটের অভিবাসীর একটি দলের কাছে অসহায় এই আত্মসমর্পণ বাংলাদেশ দলের জন্য বিশ্বকাপের অশনিসংকেত। শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস, নেপালকে হারিয়ে যারা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন দেখেছিল, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের কালো অধ্যায়ের পর হয়তো গ্রুপ পর্ব শেষে দেশে ফেরার বিমান ধরতে হবে।

জীবন নিয়ে উক্তি