২০০ বছর পর কাজাখস্তানের গোল্ডেন স্টেপ তৃণভূমিতে ফিরেছে সেখানকার বিপন্ন প্রজাতির বন্য ঘোড়া প্রজেওয়ালস্কি। কয়েক দশকের দীর্ঘ প্রচেষ্টার অবসান ঘটিয়ে চলতি মাসের শুরুতে সাতটি প্রজেওয়ালস্কি ঘোড়া ইউরোপ মহাদেশ থেকে আকাশপথে মধ্য এশিয়ার দেশটিতে পৌঁছে। বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণীগুলোকে স্বদেশে ফেরানোর অভিযানের নেতৃত্বে ছিল প্রাগ চিড়িয়াখানা। গবেষকরা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যেই ‘পূর্বপুরুষদের ভিটায়’ দারুণ মানিয়ে নিয়েছে ঘোড়াগুলো।

এমনকি প্রজননপ্রক্রিয়াও শুরু করেছে। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা প্রাণীটি সংরক্ষণের এই কর্মকাণ্ডকে একটি প্রজন্মের বিজয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রাগ চিড়িয়াখানার মুখপাত্র ফিলিপ মাশেক বলেন, ‘এই বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী পূর্বপুরুষদের দেশে ফিরে গেছে। এই প্রজাতি ১৯৬০-এর দশকে বন্য অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

শেষবার মঙ্গোলিয়ায় দেখা মিলেছিল এই প্রজাতির ঘোড়ার…এটি একটি অলৌকিক ঘটনা।’

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে মঙ্গোলিয়া ও চীনে ধীরে ধীরে এই প্রজাতির ঘোড়া বংশবৃদ্ধি শুরু করে। তবে এই অভিযানের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো নিজ দেশ কাজাখস্তানে ফিরল প্রজেওয়ালস্কি ঘোড়া।

বিশ্বের বন্য ঘোড়ার সর্বশেষ প্রজাতি প্রজেওয়ালস্কি।

এই প্রজাতির ঘোড়াকে কখনোই পোষ মানানো যায়নি। রুশ অভিযাত্রী নিকোলাই প্রজেওয়ালস্কির নামানুসারে এই প্রজাতির ঘোড়ার নামকরণ হয়েছে। তিনিই প্রথম এই প্রজাতির ঘোড়ার সন্ধান পেয়ে বিষয়টি ইউরোপের বিজ্ঞান সম্প্রদায়কে জানান।

সহস্রাব্দ আগে মধ্য এশিয়ার তৃণভূমিতে এই প্রজাতির ঘোড়ার উৎপত্তি। ১৯ ও ২০ শতকে গবেষকদের হাত ধরে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় পাড়ি জমায় এই প্রজাতির ঘোড়া।

ঠাঁই হয় সেখানকার চিড়িয়াখানায়। মিউনিখ ও প্রাগ চিড়িয়াখানায়ও বেড়ে উঠতে শুরু করে বেশ কয়েকটি প্রজেওয়ালস্কি প্রজাতির ঘোড়া। মূলত ওই ঘোড়াগুলোর বংশধররাই এখন পূর্বপুরুষদের দেশে ফিরেছে।
সূত্র : বিবিসি

মা নিয়ে উক্তি