চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড় ধরা! প্রচলিত এই প্রবাদ কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ চুরি বিষয়টাই অনৈতিক। তাও আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই প্রবাদেরও কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। কারণ চুরি করেও ধরা পড়বে না, এমনটা নেটদুনিয়ায় ভাবাও যায় না। সম্প্রতি এমনই এক ‘চুরি’র কাণ্ডে তোলপাড় সোশাল মিডিয়া।

তাও আবার এমন এক শিল্পীর ছবি, যাকে শিল্পীমহলের প্রায় সকলেই চেনেন। সুকৌশলে সেই ছবি থেকে শিল্পীর সই মুছে দিয়ে ছবিটি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়েছিল। তাতেই রে রে করে তেড়ে আসেন সকলে। মোটের উপর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রমাণ হয়ে যায় ছবিটি আসলে কার আঁকা। তবে এক্ষেত্রে না হয় সোশাল মিডিয়া কাজে এল। এর আগেও এমন বহু ছবি চুরি হয়েছে যা অনেকেরই কল্পনার বাইরে। তালিকায় নাম করা সব শিল্পীর আঁকা ছবি রয়েছে। এমনকি বিখ্যাত মোনালিসাও চুরি গিয়েছিল বলেই শোনা যায়। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা এই ছবি সকলের পরিচিত।

এখনও সমানভাবে বিখ্যাত বলা যায়। সুতরাং এই ছবি কেউ নিজের নামে চালাবেন এমনটা হতে পারে না। তাই গোটা ছবিটাই চুরি করে নেওয়া হয়েহিল। ১৯১১ সালে প্যারিসের বিখ্যাত মিউজিয়াম থেকেই আসল ছবিটি চুরি করা হয়েছিল। বছর তিনেক পরে অবশ্য উদ্ধারও করা হয়। সেই থেকে ছবির নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেয় মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। এরপরই বলতে হয় ভ্যান গঘের আঁকা পপি ফ্লাওয়ার ছবিটির কথা।

ভ্যান গঘের আঁকার ধরণ বিশ্ববিখ্যাত। এই ছবিতেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ৬৫/৫৪ সেমির এই ছবি রাখা ছিল কায়রোর এক মিউজিয়ামে। সেখান থেকে ২০১০ সালে চুরি যায় ছবিটি। আসলে ছবিটির বাজারমূল্য নেহাতই কম ছিল না। সেই সময়ও প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা দাম ছিল এই ছবি। যদিও সেবার চুরি যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছবিটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ওই প্রথম নয়। ১৯৭৭ সালেও ভ্যান গঘের এই একই ছবি চুরি গিয়েছিল। চুরির তালিকায় রয়েছে পাবলো পিকাসোর ছবিও। ১৯১১ সালে আঁকা পিকাসোর লে পিজিয়ন অ পেটিটস পয়েস (Le Pigeon aux Petits Pois) ছবিটি চুরি যায়।

এও প্যারিসের মিউজিয়াম থেকেই। সেইসঙ্গে আরও কিছু ছবি চুরি যায়। সবমিলিয়ে সেবার কোটি টাকার ছবি চুরি হয়েছিল মিউজিয়াম থেকে। এইসব ছবি চুরির পর নষ্টও করে দেওয়া হয়েছিল বলে শোনা যায়। অনেকেই বলেন, স্রেফ ফ্রেমগুলোর প্রতি লোভ ছিল চোরের। তাই ছবিগুলির মূল্য না বুঝেই নষ্ট করে দেওয়া হয়।

এখানেই শেষ নয়। চুরি গিয়েছিল জোহান ভারমির-এর আঁকা ছবিও। ১৬৬৪ সালে আঁকা ছবিটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও কম ছিল না। সেই সুবাদে এর দামও ছিল যথেষ্টই। সেই লোভেই ভারমির-এর আঁকা ‘দ্য কনসার্ট’ ছবিটি চুরি যায়। পরবর্তীকালে খোলা বাজারে ছবিটি বিক্রিও হয়েছিল বলেই জানা যায়। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ছবিটির হদিশ ছিল না কারও কাছে। ১৯০৩ সালে এই ছবি মিউজিয়ামে পুনরায় ফেরত আনা হয়। একইভাবে রেমব্রান্ট-এর আঁকা দ্য স্টর্ম অন দ্য সি অফ গেইলি ছবিটিও চুরি যায়।

শিল্পীর আঁকা একমাত্র সমুদ্রের ছবি ছিল এটিই। একইসঙ্গে চুরি যাওয়া দামি ছবির মধ্যে এই ছবিটিকে প্রথমদিকেই রাখা হয়। ১৬৩৩ সালে আঁকা এই ছবি এখনও পাওয়া যায়নি। এমনকি ছবিটি খুঁজে দিলে অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা করেও লাভ হয়নি। মিউজিয়ামে এখনও এই ছবির ফাঁকা ফ্রেম রাখা আছে। এ তালিকা খুব একটা ছোট নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির হাত ধরে চুরির ধরণ বদলেছে। এমনকি সিনেমাতেও বড় মাপের চুরি বোঝাতে ছবি চুরির ঘটনা দেখানো হয়। অবশ্যই শিল্পীর নাম মুছে নিজের নামে চালানোর লোভে নয়, বাজারমূল্যের লোভেই চুরি যায় এইসব বিখ্যাত ছবি।

জীবন নিয়ে উক্তি