কিছুদিন আগে একজন ভারতীয় নাগরিকের আইফোন ১৪ প্লাস মোবাইল কলকাতায় হারিয়ে যায়। পরে তিনি সেখানকার মহেশতলা থানায় জিডি করেন। মোবাইল হারানোর কিছুদিন পর বাদীর কাছে একটি ই-মেইল যায়। এতে বলা হয়, হারানো মোবাইলটি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরে চালু হয়েছে।

ঐসময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে যোগাযোগ করেন ঐই ভারতীয় নাগরিক। সঙ্গে মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার জিডি ও মোবাইলটি চালু করার লোকেশন পাঠান। ম্যাসেজ পেয়ে সিএমপির জনসংযোগ শাখা থেকে মোবাইলটি উদ্ধারে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ম্যাসেজ পেয়ে ফোনটি উদ্ধারে মাঠে নামেন গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। পরবর্তীতে এসআই রবিউল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপে দীপান্বিতার সাথে যোগাযোগ করে জিডির কপি সংগ্রহ করেন।

সিএফসির গোয়েন্দা বিভাগের (বন্দর-পশ্চিম) এসআই রবিউল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ‘ভুক্তভোগী আমাদের জিডি ও মোবাইলটি বাংলাদেশে চালু করার লোকেশন পাঠায়। পরে আমরা টেকনোলজি ব্যবহার করে চারজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করি, যারা ভারত থেকে আসা চোরা মোবাইল চট্টগ্রামে বিক্রি করে থাকেন। এরমধ্যে লোকেশন অনুযায়ী কোতয়ালী থানাধীন জলসা মার্কেটে ভারতীয় চোরাই মোবাইল বিক্রি করা এক হোতাকে শনাক্ত করি।’

তিনি বলেন, ‘পাঁচ দিন মার্কেটে আমাদের টিম কাজ করে। বিষয়টি লক্ষ্য করে ওই হোতা ফোনটি দোকানের এক কর্মচারীর মাধ্যমে আমাদের দিয়ে পালিয়ে যান। গত মাসের ৬ জুন ফোনটি উদ্ধার করি আমরা। পরে শনিবার কলকাতায় আমাদের পরিচিত একজনের মাধ্যমে ফোনটি ভুক্তভোগীর নিকট হস্তন্তর করা হয়। ফোনটি হাতে পেয়ে দীপান্বিতা সরকার সিএমপি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।’

পুলিশ বলছে, মোবাইলটিতে কোনো সিম প্রবেশ না করানো সত্ত্বেও নানা কৌশলে গোয়েন্দা বিভাগ অন্তত চারজনকে শনাক্ত করে, যারা ভারত থেকে চোরাই পথে চোরাই মোবাইল এনে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের তামাকুমন্ডি লেনে বিভিন্ন খুচরা দোকানে পৌঁছে দেয় এবং নিজেরাও খুচরা বিক্রি করে। আভিযানের বিষয়ে টের পেয়ে একজন ব্যবসায়ীর মারফত চোরাই মোবাইলটি ডিবির কাছে পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে যায়।

মা নিয়ে উক্তি