গাজা উপত্যকায় এক ইসরাইল সৈন্য পবিত্র কোরআন আগুনে নিক্ষেপ করেছে। কেবল এটা করেই সে ক্ষান্ত হয়নি। আগুনে নিক্ষেপ করার ভিডিও ওই সৈন্য ধারণ করে তা ইনস্টাগ্রামে আপলোডও করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তারা মিডিয়াকে জানিয়েছে, এই ঘটনা তাদের মূল্যবোধের সাথে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ’ নয়।

এদিকে ইউরোপের অন্তত তিনটি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে তারা পদক্ষেপ ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাজা উপত্যকায় ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে সাত মাসেরও বেশি বিধ্বংসী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে বুধবার যে তিনটি দেশ এই ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। দেশগুলো হচ্ছে : আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন।

আইরিশ মিডিয়া জানিয়েছে, এক সংবাদ সম্মেলনে সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ঘোষণা করবে। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস, উপ-প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এবং মন্ত্রী ইমন রায়ান উপস্থিত থাকবেন।

নরওয়ের দুটি সংবাদপত্রের মতে, নরওয়ে একই সময়ে অনুরূপ ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্পেনে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সংসদে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে।

সানচেজ মার্চ মাসে বলেছিলেন, স্লোভেনিয়া এবং মাল্টার সাথে স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্যে তাদের প্রথম পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে। উল্লেখ্য, শান্তির জন্য তিনি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে অপরিহার্য হিসাবে দেখছেন।

এদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ভিডিও পোস্ট করে আয়ারল্যান্ডকে সতর্ক করে বলেছে, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে ইরান ও হামাসের হাতের মোয়ায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

ফিলিস্তিন সংগঠন হামাস গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক বড়ো ধরনের হামলা চালায়। এতে ১,১৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক লোক।
হামাস ওই সময়ে ২৫২ জনকে জিম্মি করে। যাদের মধ্যে ১২৪ জন এখনও গাজায় আটক রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৭ জন মারা গেছে বলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে।
এদিকে একইদিনে ইসরায়েল গাজায় প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। এতে এই পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫ হাজার ৬৪৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এদের বেশিভাগই মহিলা এবং শিশু। সূত্র : আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই ও এএফপি

জীবন নিয়ে উক্তি