ফেরেঙ্ক পুসকাসদের যুগের পর অনেকটা দিন ধরেই স্তিমিত হয়ে ছিল হাঙ্গেরির ফুটবল। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে শেষ হয় তাদের সোনালী প্রজন্মের। এরপর থেকেই নতুন করে জেগে ওঠার চেষ্টায় ছিল হাঙ্গেরি। সেটা হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। ডমিনিক সবোস্লাই আর মার্কো রসির হাত ধরে আরও একবার বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে হাঙ্গেরি।

এবারের ইউরোতেও দলটা এসেছিল বড় প্রত্যাশাকে সঙ্গী করে। যদিও সেই প্রত্যাশা খুব একটা ভালোভাবে পূরণ হয়নি তাদের। সুইজারল্যান্ডের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর জার্মানির কাছে ২-০ গোলে পরাজয়। ইউরোতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে হলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্পই ছিল না তাদের।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টাও তারা পেয়েছে। তৃতীয় হওয়ার কারণে সেরা চার তৃতীয় দলের একটি হয়ে ইউরোর নকআউটেও দেখা যেতে পারে হাঙ্গেরিকে। কিন্তু এমন জয়ের রাতে হাঙ্গেরির উদযাপন মিলিয়ে গিয়েছে দলের স্ট্রাইকার বারনাবাস ভার্গার ইনজুরির কারণে।

ম্যাচে একটি ফ্রিকিকে হেড করতে লাফিয়ে ওঠেন ভার্গা ও স্কটল্যান্ড গোলরক্ষক অ্যানগাস গুন। দুজনের মধ্যে সংঘর্ষের পরেই বোঝা গিয়েছিলে বাজেভাবে আহত হয়েছেন ভার্গা। তাৎক্ষণিকভাবে মাঠেই পর্দা টেনে দিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন হাঙ্গেরির কেভিন সবোথ। এরপর দলের উদযাপনে ছিল ভার্গার জার্সি। অধিনায়ক ডমিনিক সবোস্লাইকেও ভার্গার জার্সিতে দেখা গিয়েছিল। তখন পর্যন্ত জানা যায়নি বারবানাস ভার্গার ঠিক কোন অবস্থায় আছেন।

অবশ্য ঘণ্টাখানেক পর হাঙ্গেরির ফুটবল ফেডারেশন জানায়, ভার্গার মুখের বেশকিছু হাড় ভেঙেছে। স্টুটগার্ডের একটি হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করানো হবে। হাসপাতালেই তিনি রাত পার করেছেন। কোচ মারিও রসি জানিয়েছেন, চোখের কোটর এবং গালের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে তার। কোচের ভাষ্য, ‘যদি আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পারি, তবে তাকে আমাদের দলের সঙ্গে পাওয়া যাবে না।’

২৯ বছর বয়েসী ভার্গা চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে করেছেন ২৯ গোল। জিতেছেন হাঙ্গেরির লিগ শিরোপা। ইউরোতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও হাঙ্গেরির একমাত্র গোলদাতা ছিলেন তিনিই। তৃতীয় হয়ে পরের রাউন্ডে গেলেও তার সার্ভিস নিশ্চিতভাবেই মিস করবে মারিও রসির দল।

মা নিয়ে উক্তি