গত জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ২১০ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এতে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৪ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কুয়েত, মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান ও সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে।

আর যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইতালি, কুয়েত, কাতার, ওমান ও সিঙ্গাপুর থেকে জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছে যথাক্রমে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার, ১৭ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার, ১৫ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার, ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার, ১৩ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার, ১১ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার, ৮ কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার ও ৭ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের ডিসেম্বরেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৪ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এ ছাড়া শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আরও ছিল যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কুয়েত, মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান ও সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল যুক্তরাজ্য থেকে।

গত জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২১০ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। যা বিগত ৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগে ২২ অক্টোবর থেকে বৈধ চ্যানেলে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় দেশে পাঠালে প্রতি ১০০ টাকায় প্রণোদনার সঙ্গে প্রবাসীদের বাড়তি আরও আড়াই শতাংশ বেশি অর্থ দেয়ার নির্দেশনা কার্যকর করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারের দেয়া আড়াই শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও আড়াই শতাংশ অর্থ বেশি দিয়ে রেমিট্যান্স কিনতে পারবে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়তি প্রণোদনা পাওয়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো বাড়িয়েছেন প্রবাসীরা। সামনে এর পরিমাণ আরও বাড়বে।

গত জানুয়ারিতে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৭ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ২৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

জানুয়ারিতে ঢাকায় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। জানুয়ারিতে চট্টগ্রামের প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৫৯ কেটি ৮৯ লাখ ডলার। সিলেট বিভাগে ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, খুলনা বিভাগে ৮ কোটি ২৮ লাখ ডলার, রাজশাহী বিভাগে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, বরিশাল বিভাগে ৫ কোটি ৯ লাখ ডলার, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ও রংপুর বিভাগে ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এদিকে গত ডিসেম্বরে ১৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আর গত নভেম্বর, অক্টোবর, সেপ্টেম্বর, আগস্ট ও জুলাইতে এসেছে যথাক্রমে ১৯৩ কোটি ৪০ হাজার, ১৯৭ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার, ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার, ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ, ৫০ হাজার ও ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

আর গত অর্থবছরের জুলাইতে ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার, আগস্টে ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার, সেপ্টেম্বরে ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার, ডিসেম্বরে ১৬৯ কোটি ৯৭ লাখ, জানুয়ারিতে ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার, ফেব্রুয়ারিতে ১৫৬ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার, মার্চে ২০২ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার, মে মাসে ১৬৯ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ও জুন মাসে এসেছিল ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।