প্রবাসীদের পরিবার, পর্যটন ও বাণিজ্যিক দর্শনার্থীদের জন্য আরো একবার দরজা খুলল কুয়েত। নতুন শর্তে ভিজিট ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। সম্প্রতি এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহ। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও পর্যটন যোগাযোগকে বিদেশীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার কৌশল হিসেবে এ ভিসা দেবে কুয়েত। গত বুধবার নতুন ভিসার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ভ্রমণের উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে বেশকিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে কুয়েত।

কমপক্ষে ৪০০ কুয়েতি দিনার বা মার্কিন মুদ্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার উপার্জন করেন এমন বিদেশীরা বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য ভিজিট ভিসার আবেদন করতে পারবেন। অন্য কোনো আত্মীয়কে নিতে চাইলে আবেদনকারীর উপার্জন হতে হবে কমপক্ষে ৮০০ কুয়েতি দিনার বা ২ হাজার ৬০০ ডলার।

আরো জানানো হয়, ভিজিট ভিসাকে রেসিডেন্সি ভিসায় রূপান্তরের অনুরোধ না করার ব্যাপারে লিখিত অঙ্গীকার করতে হবে। সফরের সময়কাল উল্লেখ করে দিতে হবে। এছাড়া প্রয়োজন হলে ভ্রমণকারী শুধু বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। অর্থাৎ, চিকিৎসার ক্ষেত্রে তারা সরকারি পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন না।

অন্যান্য শর্তের মধ্যে রয়েছে কুয়েতের জাতীয় এয়ারলাইনস থেকে আসা-যাওয়ার টিকিট কাটতে হবে। যদি কুয়েতে অবস্থানের নির্দিষ্ট সময়কাল লঙ্ঘন করেন, তবে ভ্রমণকারী ও স্পন্সর উভয়ের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে বাণিজ্যিক ভিসার ক্ষেত্রে কুয়েতি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনা করা হবে। এ ভিসার অধীনে যথাযথ একাডেমিক বা পেশাগত যোগ্যতা ও আবেদনকারী কোম্পানির কাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, এমন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করা যাবে।

এছাড়া পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে ৫৩টি দেশের নাগরিক বিশেষ সুবিধা পাবেন। তারা কুয়েতে প্রবেশের পর পরই ইলেকট্রনিক ভিসা পাবেন। প্রবেশস্থল বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পর্যটন ভিসার আবেদন করা যাবে। এ ভিসার আওতায় থাকা বেশির ভাগ নাগরিকই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার। এশিয়ার দেশের মধ্যে সুবিধা পাবে চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, হংকং ও তুরস্ক।

একসময় কুয়েতের ভিজিট ভিসা পাওয়া সহজ ছিল। কিন্তু ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের হার বাড়তে থাকায় স্থগিত করা হয়। ওই সময় ভিজিট ভিসায় কুয়েতে প্রবেশ করে অনেকেই দেশে ফিরে যাননি। নতুন নীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, মূলত শিক্ষিত ও দক্ষ বিদেশীদের সামনে রেখেই ভিজিট ভিসা দেয়া হচ্ছে।

বিদেশীদের জন্য সম্প্রতি বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে কুয়েত সরকার। কিছুদিন আগে দেশটির দ্য পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (পিএএম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, কুয়েতে খণ্ডকালীন চাকরির সুবিধা পাবেন বিদেশীরা।

আগে থেকেই কুয়েতে বসবাস করছেন এমন বিদেশীদের কথা বিবেচনায় রেখে খণ্ডকালীন চাকরির পরিকল্পনাটি সাজানো হয়েছে। এজন্য কিছু শর্ত ও আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী এতদিন দেশটিতে খণ্ডকালীন চাকরি নিষিদ্ধ ছিল। কেউ এ আইন অমান্য করলে তাকে জেল-জরিমানাসহ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হতো।