পটুয়াখালীতে কলেজছাত্রকে অপহরণ ও জোর পূর্বক বিয়ের পর ছেলের বাড়িতে অবস্থান করা সেই তরুণী ইশরাত জাহান পাখি বাবার বাড়ি ফিরে গেছেন। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান।

এদিকে পাখির পক্ষ থেকে তার কথিত স্বামী নাজমুলসহ তিনজনকে আসামি করে ১২ অক্টোবর পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে ইশরাত জাহান পাখির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, পাখির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরেই তাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর নাজমুল নানান অজুহাতে পাখির পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করেন।

এ ঘটনায় পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আমিরুল ইসলাম মামলাটি গ্রহণ করে আসামিদের আগামী ৬ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পাখির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে জানাতে চাইলে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইশরাত জাহান পাখির সঙ্গে নাজমুলের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

একই দিন নাজমুল পটুয়াখালী থেকে তাকে অপহরণ করে বিয়ে করা হয়েছে বলে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। একই মানুষ একই দিনে দুই জায়গায় কীভাবে থাকে। এ বিষয়ে আমার মক্কেল আইনিভাবে মোকাবিলা করবেন।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্র নাজমুলকে অপহরণ এবং তাকে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ৩ অক্টোবর নাজমুলের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশিত হলে তা সারা দেশে ভাইরাল হয় এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এদিকে ১৫ অক্টোবর পাখি নাজমুলের গ্রামের বাড়ি মির্জাগঞ্জে অবস্থান নেন এবং ১৯ অক্টোবর তিনি আবার বাবার বাড়ি ফিরে যান।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।