মুম্বাইয়ের আর্থার রোডের জেলে দিন কাটছে মা;দ;ক মামলায় গ্রেফতার বলিউড সুপারস্টার শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের।

জেলে কাউন্সেলিং চলছে তার, শাহরুখের ছেলে হলেও কোনোরকম বাড়তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে না তাকে। এই অবস্থায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি। হঠাৎ নানামুখী চাপে এখন আরিয়ান।

ভারতের মা;দ;ক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলেছেন, আরিয়ানকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে কারাগারেই পবিত্র কোরআন শরীফ পড়তে দেয়া হয়েছে তাকে। মূলত আরিয়ানকে দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতেই এই প্রচেষ্টা।

জানা গেছে, জেলে আরিয়ানসহ গ্রেফতার প্রত্যেকের কাউন্সেলিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে একটি সমাজসেবী সংগঠন এবং এনসিবি কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ে। তাদের কাছেই আরিয়ান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ছাড়া পেলে নে’শা করা ছেড়ে দেবেন। মানুষের জন্য কাজ করবেন। শুধু তাই নয়, যেকোনো খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন। দুঃস্থদের সাহায্য করবেন এবং তাদের আর্থিকভাবেও সাহায্য করবেন।

এই বিষয়ে সমীর ওয়াংখেড়েকে জিজ্ঞাসা করা হলে উনি বলেন, আমরা প্রতিটি অভিযুক্তর কাউন্সিলিং করি। এর জন্য মুম্বাইয়ের ইস্কন মন্দিরের পুরোহিত, মসজিদের মাওলানা আর অন্যান্য ধর্মের জ্ঞানী মানুষদের সহযোগিতা নেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও’র সাহায্য নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের তাদের ধর্ম অনুযায়ী কোরআন, গীতা আর বাইবেল দেওয়া হয়।

সমীর ওয়াংখেড়ে আরো জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে কথা বলছেন আরিয়ানসহ বাকি অভিযুক্তদের সঙ্গে। এনসিবিকে আরিয়ান বলেছেন, ছাড়া পেয়ে এমন কিছু করব, যাতে আপনারা গর্ববোধ করবেন।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর রাতে মুম্বাই থেকে গোয়াগামী একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে আয়োজিত মা;দ;ক পার্টিতে অভিযান চালায় মা;দ;ক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি)। সেখান থেকেই আটক হন আরিয়ানসহ অনেকে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আরিয়ান খানকে গ্রেফতার দেখায় এনসিবি। পরে আদালত তাকে জেলে পাঠান।

এরপর বারবার তার জামিনের আবেদন করলেও তা মঞ্জুর করা হয়নি। তাই আর্থার রোড জেলে বর্তমানে আরিয়ান খান কয়দি নম্বর এন৯৫৬ হিসেবে দিন কাটাচ্ছে। পুজা উপলক্ষ্যে আপাতত বন্ধ রয়েছে কোর্ট, খুলবে আগামীকাল (২০ অক্টোবর)। কালই আরিয়ান ও তার সঙ্গীদের জামিনের আবেদনের পরবর্তী শুনানি হবে সেশন কোর্টে।