কাতারে কর্মরত প্রবাসীরা কোম্পানি থেকে কাজ বা চাকরির পদ থেকে পদত্যাগ করে অথবা কোম্পানি থেকে বরখাস্ত হলে কিংবা চাকরির মেয়াদ শেষে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাতার ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যান।

এরপর যখন স্বদেশে থাকাকালে সদ্য কাতার ত্যাগ করা কোনো প্রবাসী কর্মী আবারও কাতারে অন্য কোনো কোম্পানির ভিসায় আসতে চান, তখন দেখা যায়, পুরনো কোম্পানি ওই কর্মীর ভিসা বা আইডি বাতিল না করায় তিনি নতুন ভিসায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন না।

কারণ, যতক্ষণ পর্যন্ত পুরনো কোম্পানি কাতার থেকে একেবারে চলে যাওয়া কর্মীর ভিসা বাতিল না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো কোম্পানি এই কর্মীর নামে নতুন ভিসার আবেদন করতে পারবে না।

এক্ষেত্রে করণীয় হলো, কাতার থেকে একেবারে দেশে চলে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে, আপনি যে কোম্পানিতে আর কাজ করবেন না, সেই কোম্পানি অবশ্যই আপনার ভিসা বা আইডি বাতিল করেছে কিনা।

আইডি বাতিল না করে কাতার থেকে চলে গেলে আপনি এটি বাতিল হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্য কোনো ভিসায় কাতারে আসার সুযোগ পাবেন না।

কিছু কোম্পানি এক্ষেত্রে মৌখিকভাবে আইডি বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। এরপর দেখা যায়, ওই কর্মী কাতার ছেড়ে চলে যাওয়ার আগ মুহূর্তে তার অজান্তে কোম্পানি পুনরায় আইডি নবায়ন করিয়ে নিচ্ছে। যাতে ওই কর্মী আর কখনো কাতারে অন্য কোনো কোম্পানির ভিসায় এসে কাজ করতে না পারে। এটি পুরোপুরি বেআইনি ও অন্যায়।

তাই চাকরি থেকে পদত্যাগ করা কিংবা বরখাস্ত হওয়া অথবা চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতার ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ভিসা বাতিল করিয়ে নিতে হবে।

এ ব্যাপারে কোনো প্রতিষ্ঠান ছলচাতুরি করলে সরাসরি কাতার শ্রম মন্ত্রণালয় এবং কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানাতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার পদত্যাগ পত্র, বা চুক্তিপত্র অথবা বরখাস্ত হওয়ার পত্র প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত করতে হবে।

কাতারের শ্রম আইন অনুসারে এক আইডি বাতিল করে কাতার ছেড়ে চলে যাওয়ার পরদিনই অন্য নতুন ভিসায় কাতারে আসা যাবে। কিন্তু যদি পুরনো কোম্পানি ভিসা বাতিল না করে, বা কর্মীর অজান্তে ভিসা নবায়ন করিয়ে নেয়, সেক্ষেত্রে এই কর্মী অন্য কোম্পানিতে কাজের আশায় নতুন ভিসায় কাতারে আসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

ভিসা বাতিল হওয়ার বিষয়টি খুব সহজে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে চেক করা যাবে। ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর ইনকোয়ারি থেকে অফিশিয়াল ডকুমেন্টস বাছাই করে সেখানে আইডি নাম্বার দিলে জানা যাবে, আপনার ভিসা বাতিল করা হয়েছে কিনা।

মনে রাখবেন, কাতার থেকে চলে যাওয়ার আগে এ ব্যাপারে পুরনো কোম্পানির মৌখিক প্রতিশ্রæতির উপর ভরসা না করে বিষয়টি নিশ্চিত করিয়ে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়া সচেতন কর্মীর কর্তব্য।

যদি কোম্পানি এ ব্যাপারে গড়িমসি করে, তবে আপনি নিজেই কাতার শ্রম মন্ত্রণালয় ও কাতার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জাওয়াযাত বিভাগকে ইমেইলের মাধ্যমে তা জানিয়ে দিন।

তবে চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে সেক্ষেত্রে চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আর কাতারে আসা যাবে কি-না, সেটি যাচাইসাপেক্ষ বিষয়। এক্ষেত্রে কাতার শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রম সম্পর্ক বিভাগ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

কাতারের শ্রম আইন এবং অভিবাসন আইন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ এবং কর্মীবান্ধব। কেবলমাত্র সঠিক বিষয়টি জানা না থাকায় অনেক প্রবাসী বিপাকে পড়েন। তাই আগেভাগে জেনে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে যে কোনো ভোগান্তি বা বিড়ম্বনা থেকে বেঁচে থাকা যায়।