অবিবাহিত যুবক মাসুম তার মালিকানাধীন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের নাম দিয়েছেন ‘বউয়ের দোয়া’ পরিবহন। শহরের অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তার এই ইজিবাইক। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মাসুম (৩০) চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি গ্রামের বাসিন্দা। ওই গ্রামেই তার জন্ম। তার বাবার নাম শেখ সুলতান। তিনি মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। চার ভাই বোনের মধ্যে মাসুম সবার ছোট। মাসুম এখনো অবিবাহিত।

এ প্রসঙ্গে মাসুম বলেন, ২০০৮ সালে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে মালয়েশিয়ায় যাই। সেখানে খুব ভালোই কাটছিল। দীর্ঘ ১২ বছর পর পরিবারের টানে দেশে ফিরি।

দেশে এসে টানা তিন মাস বসেই ছিলাম। ছয় মাস আগে বন্ধু ও পরিবারের পরামর্শে ১১টি ইজিবাইক কিনি আমি। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে ইজিবাইকগুলোর নাম দিই বউয়ের দোয়া পরিবহন।

তিনি বলেন, প্রতিটি ব্যবসার জন্য একটা ব্র্যান্ডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেই নামই দিতে যাই, তা অন্য ইজিবাইকে দেওয়া আছে। পিতা-মাতার পরই বউয়ের প্রাধান্য দেওয়া হয়। আসলে তখন এই ব্র্যান্ডটির (নামটি) কথা চিন্তা করিনি।

এটা বিবাহিত কিংবা অবিবাহিতের সম্পর্ক। নামকরণের ক্ষেত্রে অবিবাহিত হলে বউয়ের দোয়া নামটি লেখা যাবে না আর বিবাহিত হলে লেখা যাবে, এ বিষয়টা তখন আমার মাথায় আসেনি। আসলে মা-বাবার পর বউ হলো সবচেয়ে আপনজন।

আমার দেওয়ার দরকার ছিল একটা আনকমন ব্র্যান্ড। তাই সব দিক বিবেচনা করেই ‘বউয়ের দোয়া’ নামটি দেওয়া হয়েছে। নামটি দেওয়ার পর বিভিন্ন মিডিয়ার প্রচার হলে আমার কাছে প্রতিদিন শত শত ফোন আসছে।

তারা আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। আমি তাদের প্রশ্নের সুন্দরভাবে উত্তর দিই। এটা আমি বিরক্তবোধ করি না বরং আমার কাছে আরও ভালো লাগে।

এ ধরনের নামকরণের কারণে বিপাকেও পড়তে হয়েছে মাসুমকে। তিনি জানান, ১১টি ইজিবাইকের মধ্যে ১০টি ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে। আর একটি তিনি নিজে চালান।

প্রথমে সবগুলো ইজিবাইকে এই নাম দেয়া হয়েছিল। অনেকে অনেক মন্তব্যের কারণে কেউ ভাড়ায় নিতে রাজি হচ্ছিল না। পরে ১০টি ইজিবাইক থেকে নামগুলো মুছে দিতে হয়েছে। শুধু আমি নিজে যেটা চালাই, ওটাতে নাম দেওয়া আছে।

এমন নাম দিলেও বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধশীল মাসুম। পরিবহনের আয় দিয়ে তাদের নিয়ে মাসুম বেশ ভালোই আছেন। তিনি বলেন, মা-বাবাকে নিয়ে আমি ভালো আছি।

তাদের সিদ্ধান্তেই আমি বিয়ে করতে চাই। আমার জন্য মেয়ে দেখেছেন তারা। বিয়ের পর বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে জীবনের বাকি দিনগুলো কাটাতে চাই।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গায় পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাফিজুর রহমান মাফি বলেন, মাসুমের বিষয়টি আমরা পজিটিভভাবেই নিয়েছি। এ নিয়ে জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

বউ তো আর পর কেউ না, মাসুম নারী জাতিকে সম্মান করেছেন। আসলে ব্যবসার জন্য একটা নতুন নাম বা ব্র্যান্ড বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ জন্য সে এই নামটা দিয়েছে।