সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত পেশাজীবীদের অর্ধেক এক বছরের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল পরিবর্তন করতে চান। যেখানে বিশ্বব্যাপী পেশাজীবীদের অন্তত ৩১ শতাংশ এমন ইচ্ছা পোষণ করেন। সম্প্রতি এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে আসে।

ইউএইর তরুণ কর্মীদের মধ্যে কর্মস্থল পরিবর্তন করার প্রবণতা বেশি বলে প্রতিবেদনে দেখা যায়। আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব পেশাজীবী কর্মস্থল পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক তাদের ৫৭ শতাংশের বয়স ১৮-৩৪ বছরের মধ্যে। ৪৫ শতাংশ পেশাজীবীর বয়স ৩৫-৫৯ বছর। স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানি সিগনার জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাপী ২১টি দেশের ১৮ হাজার ৪৩ পেশাজীবীদের ওপর এ সমীক্ষা চালায় সিগনা। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জন ইউএই এবং এক হাজার জন সৌদি আরব থেকে সমীক্ষায় অংশ নেন।

চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে আয়োজিত এ সমীক্ষায় এসব পেশাজীবীর প্রতি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পাঁচটি প্রশ্ন রাখা হয়। শারীরিক, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্য সূচক নিয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

বৈশ্বিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসি সর্বশেষ মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে অফিসে ফিরে আসা এবং নতুন হাইব্রিড কর্মপদ্ধতির ফলে নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে বৃহৎ এক সমন্বয়হীনতার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

ফলে অফিসগুলোতে পদত্যাগ ও কর্মীদের সঙ্গে সংযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পেশাজীবীর কর্মস্থল ত্যাগের হার পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেকটাই দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

অন্য এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা পেশাজীবীদের ৪২ শতাংশ মনে করেন তাদের বর্তমান প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময়ের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সুবিধা বাতিল করলে তারা নতুন কর্মস্থলের সন্ধান করবেন। এক্ষেত্রে ওয়ার্ক ফ্রম হোম সুবিধাকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করবেন বলেও জানান তারা। অর্থনৈতিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান প্রুডেন্সিয়াল এ জরিপ পরিচালনা করে।

সিগনার মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী জোরোমি ড্র্যাশ বলেন, ইউএই মূলত প্রবাসীনির্ভর বাজার। যদি কোনো প্রবাসী কর্মী এখানে তার কাজ হারান তাহলে তার পরিবারের সদস্যদেরও স্থানান্তর করে নিতে হবে। কারণ এখানে ভিসাগুলো কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে।

তিনি আরো জানান, ইউরোপের বাজারগুলোর তুলনায় ইউএই অনেকটা মুক্ত বাজার ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে এটি অধিক নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থাও। অন্যদিকে কভিড-১৯ সংক্রান্ত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কয়েকটি নির্দিষ্ট জাতীয়তার কর্মীদের নিজ দেশে ফেরত যেতে বাধ্য করেছিল।

কারণ এসব কর্মী তাদের পরিবারের কাছে থাকাটা প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘোষণা করা ভিসা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ফলে সামনের দিনগুলোতে ইউএইর শ্রমবাজার ও বাসস্থানের পরিবেশ উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে।

বৈশ্বিক ওয়েল-বিং ইনডেক্সের তুলনায় সব মিলিয়ে ইউএইর জীবনযাপনের সূচক ক্রমাগতভাবে ঊর্ধ্বগতি বজায় রেখেছে। কভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর থেকেই এমন অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানায় সিগনা।

জোরোমি ড্র্যাশ জানান, হংকং, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে কভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে চলাচলে বিধিনিষেধ নাগরিকদের জীবনযাপনের সুযোগ প্রাক-মহামারী স্তরের তুলনায় অনেক হ্রাস পেয়েছে।

কিন্তু এক্ষেত্রে ইউএই অনেক ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাদের ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন সক্ষমতা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সহজ করা, পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা পরিবেশ ও জনগণকে অনেকটাই নিরাপত্তা প্রদান করেছে।