‘মুই খুব গরিব মানুষ বাহে! এই ভ্যান চালেয়া করোনাভাইরাসোত কোনরকম ৯ জন মানুষ খাই। লোন নিয়া অটোভ্যানটা কিনছুং। এই ভ্যান চালে সংসার ও কিস্তির টাকা দেওয়া নাগে।

নামাজ পরি যেয়া ভ্যান খান চুরি গেল। এ্যালা মুই কেমন করি কিস্তির টাকা শোধ করিম? আর সংসার কেমন করি চালাইম সেই চিন্তায় বাচোংছে না৷’

আকুতি নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পূর্ব সারডুবি গ্রামের মৃত আবদুল জলিলের ছেলে মঈনুল ইসলাম (৫০)।

মঈনুল ইসলামের নিজের বলতে কিছুই নেই। মাত্র চার শতাংশ জমিতে বাড়ি করে ৯ সদস্যের পরিবার নিয়ে এ কঠিন লকডাউনে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন অটোভ্যানটি হারিয়ে এখন নিঃস্ব তিনি।

মঈনুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার (৩০ জুলাই) অটোভ্যান নিয়ে উপজেলার বড়খাতা কেরামতিয়া বড় মসজিদে (ভাঙ্গা মসজিদ) নামাজ পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। সেখানে গিয়ে ভ্যানটি মসজিদের সামনে রেখে নামাজ আদায় শেষে বের হয়ে দেখেন সেটি আর নেই।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে ব্র্যাক এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে অটোভ্যানটি কিনেন। সেটি চালিয়ে যা পেতেন তা দিয়ে কিস্তি দেয়ার পর সংসার চালাতেন। এখন সেটাও নাই। কি করবেন না করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুম আলী বলেন, মঈনুল অত্যন্ত গরীব। ভ্যান চালিয়ে তিনি তার সংসার চালান। শুনেছি তার উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোভ্যানটি হারিয়ে গেছে। এ বিষয়ে সমাজের বৃত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, ভ্যান চুরি বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। খুব দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।