বাসা থেকে হাসপাতালে খালেদা জিয়া

এক বছরেরও বেশি সময় অর্থাৎ ৩৮৬ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) ‘ফিরোজা’ থেকে বের হলেন খালেদা জিয়া। কারাবন্দিদশা থেকে মুক্তির পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ রাজধানীর গুলশানের ভাড়াবাসা ‘ফিরোজা’য় সেই যে উঠেছিলেন, আর বের হওয়া হয়নি। করোনা আক্রান্ত বিএনপি প্রধানকে রাজধানীর এভারকেয়ার হসপিটালে (সাবেক অ্যাপোলো হসপিটাল) নেয়া হয়েছে।

এদিন রাত সোয়া ৯টার দিকে ‘ফিরোজা’ থেকে বের হয় খালেদাকে বহনকারী গাড়ি। গাড়ির পেছনের আসনে বেগুনী রঙের পোশাক পরা খালেদার সঙ্গে আরও এক নারীকে দেখা যায়। গাড়ির সামনের আসনে দেখা যায় তার গৃহকর্মী ফাতেমাকে। সবারই মুখে মাস্ক ছিল।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হসপিটালে খালেদাকে নেয়া হয়েছে তার সিটি স্ক্যান করাতে। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা বলেছেন, ‘তার সব পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু সিটি স্ক্যানটা করানো হচ্ছিল না। সিটি স্ক্যানটা করিয়ে যদি মনে হয় যে, বাসায় রেখে চিকিৎসা করাটা তার জন্য ভালো হবে, তাহলে তাকে বাসায় রাখা হবে। আর যদি মনে হয় দু-তিনদিন বা কয়েক দিনের জন্য হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখা দরকার, তবে সেটাও করা হবে।

দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর গত বছরের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান। দেশে করোনাভাইরাস ছড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে খালেদার সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। শর্ত হলো- খালেদা ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং এই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

পরে আরও দু’দফায় খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। মুক্তির পর থেকে রাজধানীর গুলশানের ভাড়াবাসা ‘ফিরোজায়’ বসবাস করছেন খালেদা জিয়া।

গত ১১ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, ৭৪ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়েছে।

তার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে দেশের যে কোনো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন বিএনপি প্রধান। সুত্র-জাগোনিউজ