ভালোবাসার টান! ভারতে বেড়াতে এসে ট্যুর গাইড তথা অটো ড্রাইভারের সঙ্গে আলাপ হয় বিদেশিনীর।

তা গড়ায় বন্ধত্ব পর্যন্ত। দু’জনেই একে অপরের সঙ্গে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ভৌগলিক দূরত্ব।

কন্যা বেলজিয়ামের বাসিন্দা। অন্যদিকে, পাত্রের বাড়ি ভারতের কর্নাটকের বিজয়নগর। কিন্তু, তাকে কি? যাবতীয় বাধা পেরিয়ে চার হাত এক হল তাঁদের। গত ২৫ নভেম্বর হিন্দু নিয়মবিধি মেনে কর্নাটকের অনন্থরাজু (৩০)-র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বেলজিয়ামের ক্যামিলি।

অটোচালকের প্রেমের টানে বিজয়নগরে এসে বেলজিয়াম তরুণীর বিয়ের খবরে ভাইরাল। জানা গিয়েছে, কর্নাটকের এই যুবক অটো ড্রাইভার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ট্যুর গাইডের কাজও করেছেন।

ক্যামিলির সঙ্গে তার প্রথম আলাপ ২০১৯ সালে। সেই সময় ভারতে এসেছিলেন তিনি। বিদেশিনীর ট্যুর গাইড ছিলেন কর্নাটকের এই যুবক।

ক্যামিলি পেশায় একজন সমাজকর্মী। তিনি কর্নাটকে থাকাকালীন অনন্তরাজুর পরিবার তাকে বিভিন্ন রকম সাহায্য করেন। আর এই আপ্যায়ণ মন ছুঁয়ে যায় বিদেশিনীর। কিছুদিন ভারতে থাকার পর নিজের দেশে ফেরত যান ক্যামিলি কিন্তু, ভারতীয় এই যুবককে মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি।

এরপরেই সোশাল মিডিয়ায় ক্যামিলি যোগাযোগ করেন অনন্তরাজুর সঙ্গে। এরপর শুধু হয় তাদের প্রেমের যাত্রা।

কিন্তু, দুই একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তারা। তারা দু’জনেই নিজেদের পরিবারকে ভালোবাসার বিষয়টি জানান এবং এক্ষেত্রে আপত্তি করেননি দুই পরিবারের সদস্যরাই। এরপর পরিবারের সম্মতি নিয়েই গত শুক্রবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা।

অনন্তরাজুকে কথা দিয়েছিলেন ক্যামিলি। ২০১৯ সালে এই ভারতীয় যুবককে দেখে ভালো লেগেছিল তার। ভারতভ্রমণে তার থাকা-খাওয়া, সুবিধা-অসুবিধার খেয়াল রেখেছিলেন তিনি। সেই সময় ভারত থেকে চলে যেতে হয়েছিল ক্যামিলিকে। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ যাতে না হয় সেই খেয়ালও রাখতে হয়েছিল। কিন্তু, তিনি অনন্তরাজুকে কথা দিয়েছিলেন, ‘আমি তোমার কাছে ফিরে আসবই’।

অনন্তরাজু বলেন, “আমরা গত বছরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু, করোনার জন্য আর তা হয়ে ওঠেনি। অবশেষে আমরা এক হলাম। হিন্দু বিধি মেনেই বিয়ে হয়েছে।

আমাদের তরফে ৪০ জন আত্মীয় ছিলেন, ওর বন্ধুরাও এসেছিল। আমাদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ভালোবাসা কোনও বাধা মানে না, তা আমি বুঝেছি।”