২০১২ সালে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সিরাত জাহান স্বপ্নার বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিবার। কিন্তু স্থানীয় কোচ হারুন কিছু টাকা দিয়ে থামিয়েছিলেন সেই বিয়ে। সেই স্বপ্নাই নেপাল বিজয়ীদের ১০ নম্বর জার্সি ধারী। রংপুরের নারী ফুটবলারদের রোল মডেল এখন এই স্বপ্না। তাকে বরণ করতে চলছে ওই গ্রামের মানুষের নানা আয়োজন।

নেপালকে হারিয়ে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে যখন মাতোয়ারা বাংলাদেশ, তখন থেকেই নয়াপুকুর-পালিচড়া জুড়ে আনন্দের ঢেউ, সাথে স্বপ্নার জন্য অপেক্ষার ক্ষণ গণনা। সদ্যপুষ্করনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবে স্বপ্নার জুনিয়র ফুটবলারদের আনন্দের মাত্রাটা একটু বেশিই।

স্বপ্নাকে ঘিরে প্রত্যাশার ডালপালাও বাড়ন্ত তাদের। কয়েকজন জুনিয়র নারী ফুটবলার জানান, যে বিশাল অর্জন এনে দিয়েছেন স্বপ্না, তাকে ভালো খেলা দিয়েই বরণ করে নিতে চান তারা। স্বপ্না তাদের সাথে অনুশীলন করবেন বলেও তারা বেশ উত্তেজিত।

স্বপ্নার জন্য এখন পুরো দেশজুড়ে হৈচৈ। তবে তার ফুটবলে ক্যারিয়ার শুরুতেই ২০১২ সালে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিবার। তখন কোচ হারুন অর রশিদ মায়ের কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন স্বপ্নাকে। না খেয়েও অনুশীলন করতে হয়েছে তাকে। স্বপ্নার মা লিপি বেগম জানান, অনেক সময় খাবারও দিতে পারেননি। কখনও বুট দিতে পারেননি, দিতে পারেননি খেলার পোষাকও।

স্বপ্নার প্রথম কোচ হারুন অর রশিদ বলেন, ২০১২ সালে স্বপ্নার মা বলেন, স্বপ্নার আর ফুটবল খেলা হবে না। তখন আমি কিছু টাকা দিই তাকে। বলি, আজ থেকে এই মেয়ে আমার। তাকে আমি কিনে নিলাম। এই মেয়েকে বাংলাদেশ দলে খেলাবোই, এ আমার প্রত্যয়।

আজকের স্বপ্নার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে ১নং পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। সেই শুরুর দিনগুলো ছিল কাটায় ভরা। মেয়েদের ফুটবল খেলাকে এলাকার মুরুব্বিরা সমর্থন দিতে চাননি।

তবে গ্রামবাসী-প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বাধা উতরিয়ে স্বপ্নারা এখন তারকা। স্বপ্নাকে বরণে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। হবে প্রীতি ম্যাচসহ আনন্দ যাত্রা। গ্রামবাসী জানান, তারা এই অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত।