আর একটি ছক্কা মারতে পারলে বিশ্বরেকর্ডটা হয়ে যেতো মেলবোর্ন স্টার্সের। কিন্তু ইনিংসজুড়ে যিনি বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছেন, সেই ম্যাক্সওয়েল নিতে পারলেন কেবল ১ রান। তাতে মেলবোর্ন স্টার্সের ইনিংস গিয়ে দাঁড়ালো ২৭৩ রানে।

২০ ওভারের তথা টি-টোয়েন্টি ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট বিগ ব্যাশে আজ ঘটলো এই ঘটনা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং মার্কাস স্টোইনিজের ব্যাটের তাণ্ডবে একের পর এক বল কেবল উড়ে গিয়ে পড়েছে বাউন্ডারির বাইরে। তাতেও হলো না বিশ্বরেকর্ড।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটা হলো তৃতীয় সর্বোচ্চ। কারণ, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের দেরাদুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭৮ রান করেছিল আফগানিস্তান এবং একই সালের আগস্টে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে চেক রিপাবলিক করেছিল ২৭৮ রান। শেষ বলে ম্যক্সওয়েল ছক্কা মারতে পারলে মেলবোর্ন স্টার্সেরও স্কোর হতো ২৭৮। তা না হয়ে তাদের ২৭৩ রানের স্কোর হলো তৃতীয় সর্বোচ্চ। তবে, বিগ ব্যাশের ১১ বছরের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর।

শেষ বলে ১ রান নিয়ে যখনই ম্যাক্সওয়েল প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা ধরবেন, আগেই দৌড়ে এসে তারসঙ্গে হ্যান্ডশেক করলেন লামিচানে। আগেরওভারে যাকে ৫টি বাউন্ডারি মেরেছিলেন তিনি। এরপর একে একে হোবার্ট হারিকেন্সের খেলোয়াড়রা হ্যান্ডশেক করলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে। শেষমেষ কোনোমতে তার হাতটার দেখা পেলেন সতীর্থ ব্যাটার স্টোইনিজ। সবার সাথে হ্যান্ডশেক করার পরই নিজের হেলমেটটা মাথা থেকে খোলার সুযোগ পেলেন ম্যাক্স।

২০ ওভারের ক্রিকেট টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর কত হতে পারে? বড়জোর ২২০, ২৩০ কিংবা ২৪০। কিন্তু কোনো একটি দল যদি সেই স্কোরটাকে ২৭৩ রানের চূড়ায় নিয়ে দাঁড় করায়, তাহলে তাকে কী বলা উচিৎ? অতিমানবীয়?

সেই অতিমানবীয় ব্যাটিংয়েরই আজ দেখা মিললো বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। মেলবোর্ন স্টার্স আর হোবার্ট হারিকেন্সের ম্যাচে। হোবার্টের বিরুদ্ধেই রীতিমত হ্যারিকেনের ঝড় তুললেন মেলাবোর্নের ব্যাটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং মার্কাস স্টোইনিজ। এই দু’জনের ব্যাটে চড়ে হোবার্টের বিপক্ষে ২৭৩ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করিয়েছে মেলবোর্ন।

মেলবোর্ন যদি হ্যারিকেন তৈরি করে হোবার্টের বিপক্ষে, তাহলে নিশ্চিত এমসিজিতে আজ টর্নেডো বইয়ে দিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কী এক অতিমানবীয় ইনিংস খেললেন তিনি। ওপেন করতে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে খেলেছেন ১৫৪ রানের বিশাল এক ইনিংস। বল খেলেছেন কেবল ৬৪টি।

যদিও পুরো ইনিংসের অর্ধেকেরও বেশি বল খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু এর মধ্যে হোবার্টের ফিল্ডারদের বলতে গেলে তিনি বাউন্ডারির বাইরেই রেখেছেন। ছক্কা মেরেছেন কেবল ৪টি। কিন্তু বাউন্ডারি মেরেছেন ২২টি। ১৮তম ওভারে নেপালি স্পিনার সন্দিপ লামিচানেকে টানা ৫টি বাউন্ডারি মেরেছেন ম্যাক্সওয়েল। ৪ ওভারে সবচেয়ে বেশি ৫২ রান দিয়েছেন লামিচানে।

২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন ম্যাক্সওয়েল। এরপর সেঞ্চুরি করেন তিনি ৪১ বলে। ৬২তম বলে গিয়ে করেন ১৫০ রান। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৬৪ বলে ১৫৪।

ম্যাক্সওয়েল ঝড় তুললেও থেমে থাকেননি মেলবোর্ন স্টার্সের আরেক তারকা মার্কাস স্টোইনিজ। ৩১ বল খেলে তিনি অপরাজিত ছিলেন ৭৫ রানে। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে তিনি ছক্কার মার মেরেছেন ৬টি। ওপেনার জো ক্লার্ক ১৮ বল খেলে ৩৫ রান করে আউট হন। এছাড়া নিক লারকিন আউট হয়েছেন ৭ বলে ৩ রান করে।

শেষ পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়ে মেলবোর্ন স্টার্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৩ রান। আর একই সঙ্গে আগামী আইপিএলে নিজেদের বাজারমূল্য আকাশে ছোঁয়ানোর ব্যবস্থাটাও কী করে ফেললেন না ম্যাক্সওয়েল আর স্টোইনিজ!