হ;তাশা;র কারণে আ;ত্মহ;ত্যা করতে চাওয়া কাজী আসমা আজমেরী ভ্রমণ করেছেন ১১৫টি দেশ। বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে ১১৫টি দেশ ভ্রমণ করে তাক লাগিয়েছেন বিশ্বকে।

এবার ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ১১৬তম দেশ ভ্রমণে যাবেন ভ্রমণকন্যা কাজী আসমা। ১১৬তম দেশ লেবাননে গিয়ে নিজের জন্মদিন পালন করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

১১৫তম দেশ গ্রিসে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর করোনাভাইরাসের কারণে তিনি ভ্রমণে বের হতে পারেননি।

পরে চিকিৎসার জন্য গত ৭ মার্চ ভারতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন। করোনা বিপর্যস্ত সময়ে ভারত যখন রূপ নিয়েছিল ;মৃ;ত্যুপু;রীতে; তখন চিকিৎসা নিতে গিয়ে আটকা পরেন ভারতের গোয়ায়। সেখানে ২৩৩ দিন কাটিয়ে দেশে ফেরেন।

তিনি ভ্রমণের সংগৃহীত সামগ্রী দিয়ে লাইব্রেরি, জাদুঘর, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালু করেছেন নিজ বাড়িতে। দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ইতিবাচক মনোভাব, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশ পরিচিতি বৃদ্ধি হয় বলে জানান কাজী আসমা।

তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন ঘটানাকে কেন্দ্র করে একসময় আমি আ;ত্মহ;ত্যা করতে গিয়েছিলাম। এরপর ভ্রমণই আমাকে সুন্দর জীবন দিয়েছে। ডিপ্রেশনে ভুগলে আত্মহত্যার মতো পথে না হেঁটে; ভ্রমণের পথে হাঁটা উচিত, মানুষ জীবনকে উপভোগ করতে পারবে।’

২০১০ সালে ভিয়েতনামে ভ্রমণ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন তিনি। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার পর তাকে রিটার্ন টিকিট দেওয়া হয়নি বরং বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখার পর ভিয়েতনামের ইমিগ্রেশনের জেলে ২৩ ঘণ্টা বন্দি করে রাখা হয়। সেই আক্ষেপ থেকেই তিনি বিশ্বের সব দেশ ভ্রমণের চিন্তা করেন বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়েই।

কাজী আসমা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি খুব দুরন্ত ছিলাম। ঘুরে বেড়নোর ইচ্ছা ছিল প্রবল। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই বিশ্ব ঘুরে দেখার ইচ্ছা জাগে। প্রথমে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড।

নীল সমুদ্র দেখার পর মনে হয়েছিল, ভ্রমণের জন্য যত টাকা খরচ হয়েছে; এই সমুদ্র দেখার পর সব উঠে গেছে। এরপর নেপাল যাই। হিমালয় দেখার পর পুরো বিশ্বের সৌন্দর্য আমাকে টানতে থাকে। তখন থেকে পৃথিবীর নানা দেশে যাওয়ার ভিসা সংগ্রহের লক্ষ্যে নামি।’

তিনি বলেন, ‘আমি যে দেশে গিয়েছি, সেখানে বাংলাদেশি যারা ছিল; তারা আমাকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেছেন। অনেক দেশের মানুষ আামাকে ভারতের নাগরিক ভাবতেন, তাদের সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতাম আমি ভারতের নই; লাল-সবুজের পতাকাওয়ালা বাংলাদেশি।’

ভ্রমণের টাকা কীভাবে জোগান? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করতাম আর টাকা জমাতাম। সেই টাকা দিয়েই ভ্রমণ করি। পড়াশোনা শেষ হলে এক-দেড় বছর চাকরি করি আর ৬ মাস ভ্রমণ করি।’

আসমা বলেন, ‘আ;ত্মীয়;রা আমাকে নিয়ে কানাঘুষা করত। যারা আমাকে নিয়ে বিভিন্ন কথা বলতেন, আমিও তাদের এড়িয়ে চলতাম। অনেকে ফোন করে বলতেন, দেশের বাইরে আমি কোথায় থাকছি? তখন হোটেলে থাকার কথা জানাতাম। তারা সমালোচনা করতেন। আমার পরিবারের কাছে বলতেন, হোটেলে ভালো মানুষ থাকে না, মেয়ে খারাপ হয়ে গেছে।’

তার মতে, ভ্রমণ করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন, নিয়ম-নীতি, নৈতিকতা জানা ও শেখা যায়। নিজের মধ্যে থেকে হিংসা-বিদ্বেষ চলে যায়। যারা ভ্রমণ করে তারা উদার মনের হয়। নিজের মধ্যে দক্ষতা তৈরি হয় ভ্রমণের মাধ্যমেই।

যারা হতাশায় ভুগে আ;ত্মহ;ত্যা;র মতো পথ বেছে নেন, ভ্রমণ কি তাদের হতাশা ভুলিয়ে দিতে পারবে? এমন প্রশ্ন করলে কাজী আসমা আজমেরী বলেন, ‘যারা আ;ত্মহ;ত্যার মতো পথে হাঁটার চিন্তা করেন;

তাদের একবার ভ্রমণের পথে হাঁটা উচিত। আমার মনে হয়েছে, আমি যেখানে বসবাস করছি; তারাই আমাকে পছন্দ করছেন না। কিন্তু বাইরের মানুষ তো আমাকে অসম্ভব ভালোবাসেন। তাহলে আমি কেন আ;ত্মহ;ত্যা করবো!’

বিশ্ব অনেক বড়। এখানে জীবনে অনেক কিছু দেখার আছে, দেখানোর আছে, শেখার আছে এবং শেখানোর আছে। আত্মহত্যার পথে গিয়ে সুন্দর জীবন নষ্ট না করে বিশ্ব ঘুরে জীবনকে উপভোগ করার পরামর্শ দেন ভ্রমণকন্যা কাজী আসমা আজমেরীর।