কিছুদিন আগে ৩০ কোটি পাউন্ডে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে কিনে ইউরোপীয় ফুটবলে ঝড় তুলেছে সৌদি মালিকানাধীন কনসোর্টিয়াম সৌদি পাবলিক ইনভেস্ট ফান্ড (পিআইএফ)। এর প্রধান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এবার তার নজর পড়েছে তুলনায় অনেক সফল ও জনপ্রিয় ক্লাব ইন্টার মিলানের দিকে।

ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘লিবেরো’ জানিয়েছে, ইন্টার মিলানের মালিক চীনের সানিং কমার্স গ্রুপ নাকি ক্লাব বিক্রি করতে আগ্রহী। চ্যাম্পিয়নস লিগ চলাকালে গত সেপ্টেম্বরে এ নিয়ে বৈঠকে বসেছিল দুই পক্ষ। সেখানে গত মৌসুমে সিরি আ’র শিরোপা জেতা ইতালিয়ান জায়ান্টদের আনুমানিক দাম ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা)।

গত মৌসুমে লিগ জেতা ইন্টার গত জুলাইয়ে মরক্কোর ফুটবল তারকা আশরাফ হাকিমিকে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায় পিএসজির কাছে এবং পরের মাসে রোমেলু লুকাকুকে ১১ কোটি ৬০ লাখ ইউরোয় চেলসির কাছে বেচে দেয়।

কিন্তু তা সত্ত্বেও করোনা মহামারির কারণে ক্লাবটি রেকর্ড ২৪ কোটি ৫৬ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা) লোকসান গুনেছে।

মূলত সাম্প্রতিক লোকসানের কারণেই ইন্টারকে বেচে দিতে চান সানিং গ্রুপের মালিক ঝ্যাং জিনডংয়ের ছেলে ঝ্যাং ক্যাংইয়াং, যিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি।

এবার সৌদি যুবরাজের নজর পড়ায় হয়তো কপাল খুলে যেতে পারে সিরি ‘আ’তে ১৯ বারের চ্যাম্পিয়ন দলটির। কারণ নিউক্যাসলকে কিনে নেয়া সৌদি মালিকানাধীন কনসোর্টিয়ামটির সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩২০ বিলিয়ন পাউন্ড। যা শুধু প্রিমিয়ার লিগ নয়, ইংলিশ ক্লাবটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাবে পরিণত করেছে।

সৌদি যুবরাজ নিউক্যাসল কিনে নেয়ার আগে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাব ছিল ফ্রান্সের প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথোরিটির অর্থায়নে পরিচালিত হয় ক্লাবটি।

যাদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২২০ বিলিয়ন পাউন্ড। আর এতদিন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে ধনী ক্লাব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসা ম্যানচেস্টার সিটির মালিক শেখ মনসুরের সম্পদের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন পাউন্ড।

এদিকে ইতালির শীর্ষ ক্রীড়া সাংবাদিক ফেদেরিকো স্ট্রুমোলো জানিয়েছেন, লিবেরোতে প্রকাশিত রিপোর্ট সম্পর্কে নিশ্চিত নন তিনি। তার দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার খবরটি সত্য, কিন্তু চুক্তির ব্যাপারটি এখনও নিশ্চিত নয়।