কুয়েতে আসতে হলে বা থাকতে হলে জেনে রাখুন ভিসা সম্পর্কে!!

উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে প্রতিটা ভিসার ই ক্যাটাগরি থাকে আর সেই ভিসা নিয়েই আমরা কুয়েতি আসি। কুয়েতে আসার পরে ভিসা ক্যাটাগরি বুঝতে পেরে মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো উপক্রম। যদি কুয়তে আসার আগে এই ভিসা নিয়ে কেউ সত্যতা বলতো আর বিস্তারিত যেনে আসতাম তাহলে এমন দুর্দশায় পড়তে হতো না আমাদের।

ভিসা ক্যাটাগরি:

#খাদেম_আকামা (আর্টিকেল ২০) – যা মূলত বাসাবাড়ি কাজ বা গৃহকর্মী হিসাবে আপনাকে এই ভিসাতে কুয়েতে আনা হয়। কফিল/ স্পন্সারের আওতায় তার মালিকানা কাজ করা জন্য।

তবে আমাদের ধারনা এই খাদেম আকামা মানেই খাদেম ফ্রী ভিসা!! এমনটা মনে করলে ভূল হবে।❌ কারন খাদেম কোনো ফ্রী ভিসা নয় তা মালিকানাধীন।

খাদেম আকামায় আবার তিনটা ক্যাটাগরি-
️১. তাব্বাক অর্থ্যাৎ রান্নার কাজ।
️২. আমেল অর্থ্যাৎ বাসার হারেজ/দাড়োয়ান।
️৩. সাইক অর্থ্যাৎ বাসার ড্রাইভার।

তো এই খাদেম আকামাদারীরা অনেকেই বাহিরে কাজ করে যা – দন্ডনীয় অপরাধ এবং কুয়েতের আইনে লঙ্ঘন। এমতা অবস্থায় আপনাকে যদি কুয়েত প্রসাশান মালিকানাধীন ব্যাতিত বাহিরে কর্মরত অবস্থায় আটক করে তাহলে আইন অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে তারা।

আখুদ_হুকুমা (আর্টিকেল ১৮) : – আখুদ আকামা, যা কুয়েত সরকারের চুক্তিবদ্ধ প্রজেক্টে কাজ করার জন্য আনা হয়।
এই আখুদ হুকুমা মানেই যে ফ্রী ভিসা তা ভেবে থাকলে ভূল হবে।❌
কারন এই আকামা নিয়ে বাহিরে কাজ করাও কুয়েতের আইনে লঙ্ঘন। এবং বাহিরে কর্মরত অবস্থায় আপনাকে আটক করলে কুয়েতের আইন অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে তারা ব্যাবস্থা গ্রহন করবে ।

অনেক সময় দেখা যায় এই আখুদ ভিসায় কুয়েতে আসার পর – সুপার ভাইজার, মুদির, ফোরম্যান বা কাজের অত্যাচারে আকামা হাউল করতে চান!! তবে আকামা হাউল হবে আখুদ টু আখু্দ ক্যাটাগরিতে।

অনেকে বলে যে আখুদ থেকে হাউল হওয়ার জন্য কেইস / মামলা করে ট্রান্সফার হওয়া যাবে???
আখুদ আকামা হাউলের ব্যপারে কেইস বা মামলা করা যাবেনা যেহেতু গর্ভমেন্ট প্রজেক্টের ভিসা এগুলা।
হ্যা তবে আকামা সঠিক রাখা, বেতন,বোনাস অন্যন্য সুযোগ সুবিধা গ্রহনের জন্য মামলা করতে পারেন শোনে গিয়ে।

আহালি (আর্টিকেল ১৮): – আহালি আকামা হলো প্রাইভেট কোম্পানী।
বিভিন্ন ব্যাক্তি বা সংস্থা দ্বারা লাইসেন্স প্রাপ্ত কোম্পানি এগুলো। আর প্রাইভেট বলতে তো আমাদের মাথায় চলে আসে নানান রকম চিন্তা। তবে এখানেও তার ব্যাতিক্রম নয়।

এই আহালি আকামার কোম্পানীও চুক্তিবদ্ধ বিভিন্ন সংস্থার সাথে, যেমন আবাসি হোটেল, ক্যাটারিং, রেষ্টুরেন্ট ইত্যাদি অনেক কাজেই চুক্তি পায়, আর সেই অনুযায়ীই চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হয় আহালী আকামাধারী লোকদের।
তবে এটাও ফ্রী ভিসা ভাবলে ভূল করবেন। ❌

কোম্পানির চুক্তিবদ্ধ স্থান ব্যাতিত বাহিরে কাজ করা মানেই কুয়েতের আইন লঙ্ঘন এবং কুয়েত প্রশাসন যদি আপনাকে আটক করে কখনো তাহলে আইন অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে তারা।

#রায়শোন/ #রায়গানাম (আর্টিকেল ১৮) – এই রায়গানাম ভিসাও শোন ভিসা। আর এ ভিসাতে লোক আনা হয় জাকর / ফার্মে কাজ করার জন্য। তো ফার্মে গানাম,উট, হাঁস-মুরগী, কবুতর, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি থাকে। এই ভিসায় কুয়েতে আসার পর এ কাজই করতে হয়। তবে হ্যা এ কাজ গুলো সাধারন মরুভূমিতে করতে হয়। যেমন পশু পাখিদের সেবা যত্ন, খাবার দেওয়া এবং পয়পরিস্কার করার কাজ করতে হয়।

তবে এ ভিসা নিয়ে ও বাহিরে অন্যকোনো কাজ করা যাবেনা খামার/ফার্মের কাজ করা ছাড়া। যদি বাহিরে অন্যকোনো কাজ করার সময় কুয়েত প্রশাসন আপনাকে আটক করে তাহলে তারা তাদের আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন করবে।

অনেকের প্রশ্ন: রায়গানাম আকামা দিয়ে কি লাইসেন্স বানানো যায়??
উ: উত্তর হ্যা বানানো যায়, যদি কফিল /স্পন্সার তার কারন দিয়ে লাইসেন্স বানিয়ে দেয়। যেমন পশুপাখির খাদ্য আনা নেওয়ার জন্য।
তবে বর্তমান কানুন অনুযায়ী- রায়গানাম থেকে আহালি হওয়ার সুযোগ দিয়েছে কুয়েত সরকার।

মাজরা_শোন (আর্টিকেল ১৮):- মাজরা শোন বলতে সাধারনত আমরা কৃষি কাজের বা ফলফলাদি চাষবাসের কাজ বুঝি। হ্যা এটাই। মাজরা ভিসাতে লোক কুয়েতে আনা হয় চাষবাস করার জন্য। ফসল উৎপাদন করার জন্য।
⛔ এই মাজরা ভিসা নিয়ে যদি বাহিরে অন্য কোথাও কাজ করাও কুয়েতের আইনে লঙ্ঘন। আর তখন যদি কুয়েত প্রশাসন আপনাকে আটক করে তাহলে আইনগত ভাবে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে তারা।

মাজরা ভিসাতে কি লাইসেন্স বানানো যায়???

উ: জ্বী লাইসেন্স বানানো যায়, তবে আকামা সাইক হতে হবে।

মাসনা_শোন (আর্টিকেল ১৮):- মাসনা ভিসায় লোক আনা হয় বিভিন্ন কল-কারখানায় কাজ করার জন্য। কুয়েতের ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল এলাকাতে যে কারখানা আছে সেগুলোতেও কাজ হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন কারখানায় কাজ হতে পারে।

তবে এই ভিসা নিয়েও বাহিরে কাজ করা যাবেনা, যদি বাহিরে কর্মরত অবস্থায় কুয়েতের প্রশাসন আপনাকে আটক করে তাহলে তারা আইনগত ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

মাসনা আকামাতে লাইসেন্স হয় কী???
উ: জ্বী হয়,- তবে আকামা সাইক হতে হবে।

ছায়েত_ছামাক (আর্টিকেল ১৮): – ছায়েত ছামাক আকামা বলতে মূলত সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য যাদের কুয়েতে আনা হয় তাদের জন্য এই ভিসা। যারা সুমদ্রে মাছ ধরে। এটা বিভিন্ন সংস্থার বা কোম্পানির আওতায়ই থাকে।

এই ভিসা নিয়েও যদি কেউ বাহিরে অন্য কোনো কাজ করে আর তখন যদি কুয়েত প্রসাশন তাকে আটক করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে তারা।

গর্ভমেন্ট_ভিসা (আর্টিকেল ১৭) – কুয়েত সরকার গৃহিত সরাসরি সরকারে আওতাধীন আকামার লোক। এদেরকে কুয়েতে আনা হয় সরাসরি গর্ভমেন্ট কন্টাকের ভিসায়।

এই ভিসা নিয়েও বাহিরে কাজ করা যাবেনা যদি বাহিরে কর্মরত অবস্থায় কুয়েতে প্রশাসন কাউকে আটক করে তাহলে আইন অনুযায়ী আপনার প্রতি তারা ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

ফ্যামিলি_ভিসা (আর্টিকেল ২২):- যারা কুয়েতে পরিবার নিয়ে আসে তাদের জন্য এই ভিসা। অনেকেই কুয়েতে ফ্যামিল ভিসায় পরিবার নিয়ে কুয়েতে থাকে। আর তাদের ভিসা নাম্বার ২২।
শোন আকামাধারীর লোক স্ট্যাটমেন্ট দেখিয়ে ফ্যামিলি আনতে পারে কুয়েতে। এছাড়া কূটনৈতিক ব্যাক্তিরা তাদের পরিবার কুয়েতে আনতে পারে।

ভিজিট_ভিসা (আর্টিকেল ১৪) – ভিজিট বলতে তো সবাই ভ্রমন বুঝে। আর কুয়তেরও ভিজিট ভিসা আছে যেখানে নির্ধারিত দিন বা সময় উল্লেখ্য থাকে আপনি এতো দিন কুয়েতে থাকতে পারবেন এবং তা আপনার জন্য বৈধ কিন্তু এই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আপনার জরিমানা আসবে বা আপনি অবৈধ হয়ে যাবেন।

প্রতিটা আকামার ক্যাটাগরিতেই ড্রাইভিং লাইসেন্স বানাতে পারবেন যদি- আকামা সাইক হয়। তবে ভিজিট ভিসার জন্য লাইসেন্স প্রযোজ্য নহে।

মোট কথা আমার এই লিখা পড়ে এটা তো বুঝতে পেরছেন নির্দিষ্ট আকামা এবং কর্ম ছাড়া বাহিরে কাজ করা অন্যায় এবং দন্ডনীয় আপরাধ। এবং কুয়েতে ফ্রী বলতে কোনো ভিসা নেই।

যে কোন আকামা দিয়ে ই নিয়োগকর্তার বাহিরের অন্য জায়গাতে কাজ করা পার্টটাইম বা ফুল টাইম কাজ করা অবৈধ যা কুয়েতের আইনে নিষিদ্ধ – তারপর ও অনেকেই করে যাচ্ছে..

তবে আমরা আকামা নবায়নের সময় কুয়েতিকে একটা মোটা অংকের টাকা দিয়ে বাহিরে কাজ করে থাকি এতে কফিল বা স্পন্সার আশ্বাস দেয় যে কোনো সমস্যা তারা দেখবে এটা কি আসলেই সত্যি???

আর হ্যা বাহিরে কাজ করার সময় কখনো কোনো পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলার লোক যদি আমাকে আপনাকে কখনো আটক করে তাহলে কফিল বা কোম্পানি যদি না ছাড়িয়ে আনে তাহলে তা আমাদের জন্য মসিবত মসিবত আকবর মসিবত।

এই লঙ্ঘন গুলো পেলে অনেক সময় কুয়েতের “বলদিয়া বা শোন” এর লোকেরা আমাদের বতাকা নিয়ে যায়, জরিমানা দেয়, সফরে যাওয়ার জন্য বলে, আবার অনেক সময় সফর মমনুও করে দেয়।⛔