দাদুর জন্য নাতনী লুবাবার কা’ন্না থামছেই না!

অ্যাম্বুলেন্সের বিছানায় শুয়ে আছেন বরেণ্য অভিনেতা আব্দুল কাদের। নাকে নল, বিভোর হয়ে ঘুমাচ্ছেন তিনি। শিয়রে বসে আছে আব্দুল কাদেরের ৯ বছর বয়েসি নাতনি সিমরিন লুবাবা।

প্রিয় দাদুর মাথায় হাত বুলাচ্ছে সে। তার চোখ দুটো জলে ছলছল করছে। সময় গড়াচ্ছে, গাড়ি চলছে। কিন্তু ছোট্ট লুবাবার অ’শ্রু যেন থামতেই চাইছে না! ক্যানসারে আ’ক্রান্ত হয়েছেন আব্দুল কাদের।

ভারতের চেন্নাইয়ের ক্রিস্টিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। রোববার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে চেন্নাই এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে গাড়িতে বসেই ফেসবুক লাইভে আসেন সিমরিন লুবাবার মা অর্থাৎ আব্দুল কাদেরের পুত্রবধূ জাহিদা ই’সলাম।

আর এ ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এদিন দুপুর ১২টার দিকে জাহিদা ই’সলাম বলেন—আমরা এখন চেন্নাই এয়ারপোর্টে অবস্থান করছি। খুব তাড়াতাড়ি রওনা হবো। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ঢাকায় পৌঁছাবো।

বেশ কিছুদিন ধ’রে গুরুতর অ’সুস্থ অভিনেতা আবদুল কাদের। চেন্নাইয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন এ অভিনেতা ক্যানসারে আ’ক্রান্ত। জাহিদা ই’সলাম বলেন—বাবার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পরও চিকিৎসকরা রোগ ধ’রতে পারছিলেন না।

পরে সিটি স্ক্যান ক’রানোর পর টিউমার ধ’রা পড়ে। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ৮ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখানে আবারো চেকআপ করা হলে ১৫ ডিসেম্বর ডাক্তাররা বোর্ড মিটিং করে বলেন, বাবার ক্যানসার হয়েছে। ক্যানসার সারা শরীরে ছ’ড়িয়ে পড়েছে। এটি এখন চতুর্থ স্টেজে রয়েছে।

দেশে ফিরিয়ে আনার কারণ ব্যাখ্যা করে জাহিদা ই’সলাম বলেন—এখানকার চিকিৎসকরা বাবাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নিতে চেয়েছিলেন। আমরা না করেছি। কারণ আইসিইউতে নিলে তাকে দেশে নেওয়া যেত না।

কয়েকদিন আগে র’ক্ত দেওয়ার পর বাবার শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেড়েছে। কিন্তু শরীর দুর্বল থাকায় বাবাকে কেমো দেওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা বাবাকে দেশে নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছেন। বাকিটা আ’ল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছেন।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর আব্দুল কাদেরকে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালের জ’রুরি বিভাগে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাহিদা ই’সলাম। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে নাম লেখান আব্দুল কাদের।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারে কয়েকশ’ টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। বেশিরভাগ হাস্যরসাত্মক চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।