কাতারে কোভিড-১৯ এর সম্মুখযো’দ্ধা শ্রম কাউন্সিলর ড. মুস্তাফিজুর রহমান

উপসাগরীয় দেশ কাতারের স্থানীয় নাগরীকদের পাশাপাশি প্রায় ৪ লক্ষের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি এখানে বসবাস করছে। ফলে মহামারী কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু হওয়ার পর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপদ এবং সুস্থ রাখতে ও এই বি;পদের সময় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে নানামুখী কাজ করে যাচ্ছে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

কোভিড-১৯ প্র;তিরোধে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশীদের যেমন সচেতন করে তুলছেন, তেমনি সেদেশের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং মুখে নিয়মিত মা;স্ক পরা, বিনা কারণে মানুষকে ঘর থেকে বের হওয়া থেকে বিরত রাখা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো খাদ্য উপহার প্রবাসী দুর্গতদের মাঝে বিতরণের ক্ষেত্রে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

করোনা সং;কটকালে প্রবাসী বাংলাদেশীদের করোনা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী সহায়তা প্রদান করা এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের শ্রম অ;সন্তোষ দূর করে কাতারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে স;ম্মু;খ;যো;দ্ধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস’র শ্রম কাউন্সিলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান।

চতুর্দিকে করোনা মহামারির যে ভয় প্রবাসীদের আঁকড়ে ধরে ছিলো, তিনি তা উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কাতারের দুর্গম বিভিন্ন মরুময় প্রান্তে গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া ছাড়াও অ;সুস্থ কর্মীদের খোঁজখবর নেয়া, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতা করা এবং করোনাকালীন চাকরি হা;রানো কর্মীদের পুনরায় কর্মে নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

শুধু তা-ই নয়, কাতারে করোনায় যারা মা;রা যাচ্ছে তাদের দা;ফন যাতে উত্তম ভাবে হয় সেই ব্যাপারেও তিনি তদারকি করছেন। করোনা সংকটের এই সময় তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা ব্যাপকভাবে বাংলাদেশ কমিউনিটিসহ প্রবাসীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়াও কাউন্সিলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান পৃথিবীব্যাপী করোনা মহামারি সং;কটে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ কাতার সুকৌশলে যেভাবে মহামারী কা;টিয়ে উঠেছে সেই পদ্ধতি বিশ্বের অন্যান্য দেশকে অনুসরণ করার কথা লিখেছেন জাপান এর জনপ্রিয় “কয়োদো নিউজ” এবং “জাপান ফরোয়ার্ড” ও বাংলাদেশের “দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড” পত্রিকায়। যারফলে গত ২৫ আগস্ট কাতারের মিনিস্ট্রি অব এডমিনিষ্ট্রিটিভ ডেভেলপমেন্ট ও লেবার এফেয়ার্স এন্ড সোশ্যাল এফেয়ার্স এর সহকারী সচিব মুহাম্মদ হাসান আল ওবায়দি থেকে এক অফিসিয়াল মেইলে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এর শ্রম কাউন্সিলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানকে এক বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

শ্রম কাউন্সিলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মৃত্যু এক অনিবার্য পরিণতি কিন্তু সে মৃত্যু যদি দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে হয়, তাই হবে সর্বোত্তম। কোভিড-১৯ এ কাতারে বাংলাদেশী নাগরিকদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ দূতাবাস শোকাভিভূত।’ এছাড়া তিনি আরও বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুতেই দূতাবাসে মানুষের সমাগম কমিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিভিন্ন রকম কনস্যুলার সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে, বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো খাদ্য উপহার প্রবাসীদের মাঝে বিতরণ করেছে এবং কাতারের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত শ্রমিক ক্যাম্প পরিদর্শন নিয়মিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া প্রবাসীদের স্বার্থে নিয়মিত কাতার সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে বর্তমানে দেশে আঁটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা কিভাবে নিরাপদে কাতারে এসে পৌঁছাতে পারে সে বিষয়ে কাতারের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া করোনা সংকটে যারা ক;র্মহীন হয়েছে তাদের জন্য দূতাবাসের ওয়েবসাইটে অনলাইনে কাজের আবেদন চেয়ে একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করেছে যেখানে কর্মহীনরা সহজে নিজের পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আবেদন করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট সেবা প্রদান করছে বাংলাদেশ দূতাবাস, যা পূর্বের অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেগবান। এছাড়া মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবের মধ্যেও বেশ কয়েকটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।’ বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতি মধ্যেই প্রবাসীদের দিক নির্দেশনা দিয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি মিডিয়া গুলোকে নিয়মিত সাক্ষাৎকারে মাধ্যমে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন কাতার প্রবাসীদের।

কাতারস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কাতারস্থ ঢাকা সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি ইন্জিনিয়ার আলীম উদ্দিন বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার করোনা ভাইরাস সংকটে কাতারের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশিরা বেতন ভাতা নিয়ে উদ্ভট পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কাউন্সিলর ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সমস্যা সমাধান করতেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শ্রমিক ক্যাম্পে গিয়ে অসহায় প্রবাসীদের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছাতেন। তিনি কাতারে সাড়ে চার লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীর হৃদয় জয় করেছেন। কাতার প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে তাঁর কর্মগুলো আমার চল্লিশ বৎসরের কাতারে অবস্থানকালীন সময়ের বিরল ঘটনা।’

এছাড়াও বাংলাদেশ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কাতার কমার্শিয়াল ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজার মো. শাহদাত হোসেন বলেন, ‘মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে কাউন্সিলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান তার নিজের জীবনের ঝুঁ;কি নিয়ে প্রবাসীদের পাসে দাঁড়িয়েছেন। করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন স্ব স্ব দূতাবাসের প্রতি, কাতারে আমি দেখেছি কাউন্সিলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান প্রবাসীদের জন্য তাই করার চেষ্টা করেছেন। তিনি হচ্ছেন প্রবাসীদের জন্য সেবক এবং তাঁর সেবাপ্রদান কাতার দূতাবাসের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সেবাগ্রহীতারাও বিভিন্ন সময়ে সেবা পেয়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তেমনি একজন সেবাগ্রহীতা মো. আবু তালেব তার ফেসবুকে ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সম্পর্কে লিখেন- দেশে ফেরার বি;ড়ম্বনা নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করলে, তিনি আগ্রহ নিয়ে আমাদের অনেকের সমস্যার কথা মনোযোগে শুনে আমলে নেন। যা আমাকে দূতাবাসের সেবা’র মান উন্নয়নের ধারণা পাল্টে দিয়েছে। তিনি নম্র ও ভদ্রলোক, ব্যবহার চমৎকার। মানুষকে বোঝানোর উপায়টা অসাধারণ।’

এদিকে’ ধীরে ধীরে কাতারে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে এবং যারা আ;ক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ সুস্থ হয়েছে বাড়ী ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত কাতারে করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশি সর্বমোট মৃ;ত্যু বরন করেছেন ৩৫ জন। সূত্রঃ সময় টিভি