কাতারের এই ধনকুবের বিলাসবহুল ‘বাড়ি’ ঘু’ষ দিল ফিফা মহাসচিবকে !

ইতালির সারাদিনা দ্বীপে বিলাসবহুল একটি বাড়ি পেয়েছেন। বিনিময়ে তুলে দিয়েছেন বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব। এমনই একটি অভিযোগ ওঠে ফিফার সাবেক মহাসচিব জেরোমে ভালকের বিরুদ্ধে।

ঘুষদাতাও ইউরোপিয়ান ফুটবলের বেশ পরিচিত নাম। ফরাসি জায়ান্ট পিএসজির সভাপতি তিনি। আছেন ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার নির্বাহী কমিটিতেও।

এছাড়া কাতারের স্পোর্টসভিত্তিক টেলিভিশন বেইন স্পোর্টসের চেয়ারম্যান তিনি। কাতারের এই ধনকুবেরের নাম নাসের আল খেলাইফি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতির অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুইস আদালতে

শুনানিতে অংশ নেন জেরোমে ও নাসের আল খেলাইফি দু’জনেই। এর আগে, করোনা ভাইরাসের কারণে বেশ কয়েক দফায় শুনানি পেছানো হয়।

শুনানিতে নিজের বিরুদ্ধে আনা বেশ কিছু অভিযোগ স্বীকার করেন ফিফার সাবেক এই মহাসচিব।সম্প্রচার স্বত্ত্ব ভাগাভাগি নিয়ে দু’জনে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে ২০১৫ সালে অভিযোগ ওঠে।

দুর্নীতির দায়ে বহিস্কৃত ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের ডান হাত বলে পরিচিত ছিলেন জেরোমে ভালকে। টিভি সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুটো মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৫ বছরের জেল খাটতে হবে ফিফার সাবেক মহাসচিবকে।

বেইন স্পোর্টসের মালিক নাসের আল খেলাইফির কাছ থেকে ঘুষের বিনিময়ে ২০২৬ ও ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা মহাদেশের সম্প্রচার স্বত্ত্ব পাইয়ে দেয়ার অভি;যোগ ওঠে ৫৯ বছর বয়সী ভালকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর এক বৈঠকে জেরোমেকে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ত্বের বিনিময়ে ইতালির সারাদিনা দ্বীপে ৫ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনে দেয়ার প্রস্তাব দেন খেলাইফি। ভালকে সেই প্রস্তাব মেনে নেন।

এর দুই বছর পরই খেলাইফি তাকে বাড়িটি কিনে দেন এবং শর্তের কথা মনে করিয়ে দেন। নিজের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করে স্বত্ব পাইয়ে দিবেন বলে আশ্বাস দেন ভালকে।

২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল কোনধরণের প্রতিযোগিতা ছাড়াই বেইন স্পোর্টসকে দু’টো বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব দিতে রাজি হয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

যদিও খেলাইফির আইনজীবিরা দাবি করেছেন, প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সঙ্গে নুন্যতম সম্পর্কও নেই কাতারি ধনকুবেরের।

যাই হোক, ঘুষ খাওয়া ছাড়াও, ফিফার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি ওলট-পালটের অভিযোগও আনা হয়েছে ভালকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠার পরই ভালকেকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে ফিফার এথিক্স কমিটি।

২০১৫ সালে নিষিদ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত আট বছর ফিফার মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন জেরোমে ভালকে।