ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে ২২১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৪

বর্তমান বিশ্ব ইন্টারনেট ছাড়া কল্পনা করা যায় না। ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে অচল হয়ে পড়বে পুরো বিশ্ব। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি যদি হয় অনেক স্লো তাহলে আপনার কাজেও চলে আসবে ধীরগতি।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে পৃথিবীর ২২১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৪ তম স্থানে। এমনকি সিয়েরালিওন, নাইজেরিয়া এবং মালির মতো অনেক সাব সাহারান দেশেও বাংলাদেশের চেয়ে ইন্টারনেটের গড় গতি বেশি। এই তালিকায় প্রযুক্তির শীর্ষ দেশ চীনের অবস্থান ২০০তম।

গুগল এবং আমেরিকার অনেকগুলো ভার্সিটির পরিচালিত এম ল্যাবের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এম ল্যাব বিশ্বের ২২১টি দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতির উপর এক সমীক্ষা পরিচালনা করে।

২০১৯ সালের জুলাই থেকে এ বছরের জুনের মধ্যে পরিচালিত এই সমীক্ষায় বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার ইউনিক আইপি পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গড় ইন্টারনেট স্পিড ছিল ৩.২ এমবিপিএস। এর বিপরীতে চীনে গড় ইন্টারনেট স্পিড ছিল ২.১ এমবিপিএস।

তবে দক্ষিণ এশিয়াতে নেপাল (১৫০), ভুটান (১৫৯), মালদ্বীপ (১৪১), শ্রীলঙ্কা (৭২) এবং ভারতের (১০১) চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

ঐ প্রতিবেদন বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সবচেয়ে ধীরগতির তালিকায় বাংলাদেশ ৩য়। আর বাংলাদেশের গড় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি এশিয়ার গড় ইন্টারনেটের গতির তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ২ গুণ ধীর। একই সঙ্গে পুরো বিশ্বের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ গুণ ধীর।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে তালিকার ১ম স্থান অধিকার করেছে ইউরোপের একটি ক্ষুদ্র দেশ লিশটেনস্টাইন। দেশটিতে ইন্টারনেটের গড় স্পিড ২৩০ এমবিপিএস— যা ৩ মিনিটের কম সময়ের মধ্যে ৫ গিগাবাইট ফাইল ডাউনলোড করার জন্য যথেষ্ট।

শীর্ষ থাকা ৫ দেশের বাকি দেশগুলো যথাক্রমে হলো- জার্সি, অ্যান্ডোরা, জিব্রাল্টার এবং লুক্সেমবার্গ। এসব দেশে ৫ গিগাবাইটের একটি ফাইল ডাউনলোড করতে সময় লাগে ৩ থেকে ৬ মিনিট। অন্যদিকে তালিকার সর্বশেষ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান। দেশটির গড় ডাউনলোড স্পিড মাত্র ০.৬ এমবিপিএস।